লাইফস্টাইল ডেস্ক
জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। দিনের ব্যস্ততার মধ্যে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া কিংবা রাতে বিশ্রামের সময় দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে থাকা স্বাভাবিকভাবেই বিরক্তি, অস্বস্তি ও মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তুললে লোডশেডিংয়ের সময়টিকেও মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থতার কাজে লাগানো সম্ভব।
স্ক্রিন থেকে বিরতি নিন
বিদ্যুৎ না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই টেলিভিশন, কম্পিউটার বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ কমে যায়। এই সময়টিকে ডিজিটাল বিরতি হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে।
বই পড়া, ডায়েরি লেখা, ধাঁধা সমাধান বা অন্য কোনো অফলাইন কাজে সময় দিলে মনোযোগ ধরে রাখার অনুশীলন হয়। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখে যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও কিছুটা কমে।
হালকা ব্যায়াম করুন
লোডশেডিংয়ের সময় ঘরে হালকা স্ট্রেচিং, যোগব্যায়াম বা বাইরে স্বল্প সময় হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে। নিয়মিত শারীরিক কসরত মানসিক চাপ ও অস্থিরতা কমাতে সহায়ক।
তবে প্রচণ্ড গরম বা আর্দ্রতার মধ্যে ব্যায়াম করলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করে এবং পরিবেশের তাপমাত্রা বিবেচনায় রেখে শরীরচর্চা করা উচিত।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান
লোডশেডিং হতে পারে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোরও সুযোগ। মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটের বাইরে গিয়ে গল্প করা, আড্ডা দেওয়া কিংবা লুডু, দাবা ও ক্যারামের মতো খেলায় অংশ নেওয়া মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগও বাড়ে এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়।
পছন্দের গান শুনুন
শান্ত বা পছন্দের গান শোনা অনেকের ক্ষেত্রেই মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। বিদ্যুৎ না থাকলেও চার্জ থাকা মোবাইল, স্পিকার বা ব্যাটারিচালিত যন্ত্রের মাধ্যমে স্বল্প সময় গান শোনা যেতে পারে।
তবে লোডশেডিংয়ের সময় মোবাইলের চার্জ অপ্রয়োজনে দ্রুত শেষ না করাই ভালো। জরুরি প্রয়োজনে ফোন সচল রাখার জন্য ব্যাটারি সাশ্রয়ী মোড ব্যবহার করা যেতে পারে।
জরুরি নিরাপত্তা
লোডশেডিংয়ের সময় মানসিক স্বস্তির পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।
ফ্রিজের দরজা অপ্রয়োজনে বারবার খোলা ঠিক নয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে ভেতরের তাপমাত্রা যতটা সম্ভব স্থিতিশীল রাখা জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ঘরের ভেতরে কখনো জেনারেটর, কয়লা বা অন্য কোনো জ্বালানি পোড়ানো উচিত নয়। এতে কার্বন মনোক্সাইডসহ বিষাক্ত গ্যাস জমে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে খোলা আগুনের মোমবাতির চেয়ে রিচার্জেবল লাইট বা নিরাপদ ব্যাটারিচালিত আলো ব্যবহার করা ভালো। এতে আগুন লাগার ঝুঁকি কমে।
সব মিলিয়ে, লোডশেডিংকে শুধু ভোগান্তি হিসেবে না দেখে কিছু সময়ের জন্য প্রযুক্তি থেকে বিরতি, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের যত্ন নেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

