হলের আবাসিক আসন বাতিল, চাঁদা দাবি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করছেন রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে টানা সাত ঘণ্টা ধরে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন নেছাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ আন্দোলন শুরু হয়। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে তারা তার পদত্যাগ দাবি করছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আবাসিক আসন বাতিল ও টাকা দাবির অভিযোগ
কলেজটির ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাবাসসুম অভিযোগ করেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই হলের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক আসন বাতিল করেন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন নেছা।
তাবাসসুমের দাবি, এ বিষয়ে কারণ জানতে চাইলে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বরং আসন বাতিল হওয়া ওই দুই শিক্ষার্থীর কাছে ১২ হাজার ৬০০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দাবিকৃত অর্থ কমানোর অনুরোধ জানিয়ে আসন বাতিল হওয়া এক শিক্ষার্থী প্রাধ্যক্ষের পা পর্যন্ত ধরেন। এরপরও ওই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলে প্রবেশে কিছুটা দেরি হলেও জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আরও কিছু অসদাচরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করছেন।
অধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন নেছার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের অধীনে পরিচালিত হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনুষদটির ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো জানা যায়নি।

