ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এএইকে এথেন্সের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের ৩-২ গোলের জয়ে একটি গোল করে প্রতিযোগিতাটিতে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১০০ গোলে অবদান রাখার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ফরাসি তারকা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) এথেন্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে মাত্র ১০২ ম্যাচে ১০০ গোলে অবদান রেখে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি। একই সংখ্যক ম্যাচে এ কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন রবার্ট লেভানডভস্কি।
তবে এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকা মাত্র ১০১ ম্যাচেই ১০০ গোলে অবদান রাখার মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।
অপটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০২ ম্যাচে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ৭৪, আর অ্যাসিস্ট ২৬টি। অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ১৪০ গোল ও ৪২ অ্যাসিস্টসহ মোট ১৮২ গোলে অবদান রেখে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে শীর্ষে রয়েছেন।
দুইবার পিছিয়ে পড়ে রিয়ালের জয়
এএইকে এথেন্সের মাঠে শুরু থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল ম্যাচটি। ১২ মিনিটে লুকা ইয়োভিচের পাস থেকে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন আবৌবাকারি কোইতা।
তবে ৩২ মিনিটে জুড বেলিংহামের দারুণ ব্যাকহিল ফিনিশিংয়ে সমতায় ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথমার্ধের পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ৭৫ মিনিটে কোইতার পাস থেকে গোল করে এএইকে এথেন্সকে আবারও এগিয়ে দেন স্টাভ্রো পিলো। তবে তিন মিনিট পরই ব্যবধান সমান করেন এমবাপ্পে। ডেনজেল ডামফ্রিসের নিচু ক্রস থেকে গোল করে রিয়ালকে ২-২ সমতায় ফেরানোর পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের ১০০তম গোলে অবদান পূর্ণ করেন তিনি।
ম্যাচের শেষ দিকে ড্রয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও যোগ করা সময়ে ফেদেরিকো ভালভের্দের দুর্দান্ত গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদ।
টানা ছয় ম্যাচে গোল এমবাপ্পের
এ ম্যাচে গোল করার মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে।
এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ছয় ম্যাচে গোল করেছিলেন তিনি। এবার রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
ব্যক্তিগত মাইলফলক অর্জনের পাশাপাশি দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন এমবাপ্পে।

