নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক চিকিৎসককে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ ও তাঁর সহযোগী মো. রায়হানের পরিচয়ে কয়েক দফায় ওই চিকিৎসককে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০) ও নুরুল আলম।
চিকিৎসক এম ওয়াই এফ পারভেজ চট্টগ্রামের হাটহাজারীর চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আমান বাজারের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন।
বিদেশি নম্বর থেকে ফোন
হুমকির ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন চিকিৎসক পারভেজ। জিডি সূত্রে জানা যায়, ২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা ৫৪ মিনিটে রোগীদের সিরিয়ালের জন্য ব্যবহৃত তাঁর মুঠোফোন নম্বরে বিদেশি একটি নম্বর থেকে কল আসে।
চিকিৎসকের সহকারী হ্যাপি বড়ুয়া কলটি রিসিভ করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি চিকিৎসক পারভেজের সঙ্গে কথা বলতে চান। পরে ফোনটি পারভেজের কাছে দেওয়া হয়। তখন ওই ব্যক্তি নিজেকে বড় সাজ্জাদ পরিচয় দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলেন। টাকা না দিলে চেম্বারে এসে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এরপরও কয়েক দফায় মো. রায়হানের পরিচয়ে চিকিৎসককে হুমকি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত ও অডিও বার্তা পাঠানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
১০ লাখ থেকে চাঁদার পরিমাণ ২০ লাখ
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দেওয়ায় হুমকিদাতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। চিকিৎসককে তাঁর চলাফেরা ও গাড়ির নম্বর সম্পর্কে তথ্য থাকার কথাও জানানো হয়।
পুলিশের দাবি, বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে সন্ত্রাসীদের পরিচয়ে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।
চাঁদাবাজির ঘটনায় আটক ৭
চিকিৎসককে হুমকির ঘটনায় গতকাল সোমবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা কারাগারে থাকা মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের সহযোগী। ডেভিড ইমন বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, আটক ব্যক্তিরা বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। চিকিৎসক পারভেজকেও তাঁরা হুমকি দিয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানান, গত ২৯ জুলাই যশোর হয়ে ভারতে পালানোর সময় ডেভিড ইমনকে আটক করা হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তাঁর কিছু সহযোগী বাইরে থেকে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা বড় সাজ্জাদ কিংবা রায়হানের নির্দেশে চাঁদা দাবি করার কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তাঁদের পরিচয় ব্যবহার করে অনেক সময় নিজেদের উদ্যোগেও চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আতঙ্কে চিকিৎসক
চিকিৎসক এম ওয়াই এফ পারভেজ বলেন, প্রতিদিন তাঁর কাছে অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে যেতে হয়। সন্ত্রাসীদের পরিচয়ে ফোন করে চাঁদা চাওয়ার পর থেকে তিনি আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন।
সাতজনকে আটক করায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন জানিয়ে তিনি মূল হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পাশাপাশি আটক ব্যক্তিরা যাতে সহজে জামিনে বের হয়ে আবার একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারেন, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।


