রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সিনিয়র সহসভাপতি মাহফুজুল হক লোটনকে (৬৫) নিজ বাসা থেকে নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক লিমনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা লোটনের বাসায় যান। পরে তাঁকে বাসা থেকে বের করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানায় নিয়ে যান।
পরে শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, শয্যাশায়ী ছিলেন লোটন
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুল হক লোটন দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্কের জটিল রোগে ভুগছেন। কয়েক বছর ধরে নিজ বাসায় শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি স্মৃতিভ্রংশসহ মস্তিষ্কের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত। তাঁর স্বাভাবিক চেতনা ও সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও কমে গেছে।
মামলা যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ
রাজশাহী মহানগর পুলিশের বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই নুর নবী হোসেন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জানান, সোমবার রাতে কয়েকজন ব্যক্তি লোটনকে থানায় নিয়ে আসেন। পরে তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, লোটনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানিয়েছেন, মাহফুজুল হক লোটনকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তাঁকে কখন আদালতে পাঠানো হবে, তা তাঁর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে।
আদালতে পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত চিকিৎসার পর
পুলিশ জানিয়েছে, লোটনের বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। চিকিৎসকদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁকে আদালতে পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

