কুড়িগ্রামের চিলমারীতে এক রোগীর ক্ষতস্থানের ভেতরে কাঁচের টুকরো রেখেই সেলাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রায় ৩৫ দিন পর অন্য একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার হাত থেকে দুটি কাঁচের টুকরো অপসারণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম।
আহত ব্যক্তির নাম সাইদার আলী। তিনি উপজেলার মজিদেরপাড় এলাকার খয়রুদ্দিনের ছেলে এবং পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের মতো নিজের বাড়ির সামনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জে দিয়েছিলেন সাইদার আলী। এ সময় তার স্ত্রী ও সন্তান রিকশার বডিতে বিদ্যুতায়িত হয়ে আটকে পড়েন। তাদের বাঁচাতে বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করতে গেলে আলমারির কাচে ধাক্কা লেগে তার বাম হাত মারাত্মকভাবে কেটে যায়।
পরে স্বজনরা তাকে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা ক্ষতস্থান যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই সেলাই দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
এরপর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাম হাতে তীব্র ব্যথা ও শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন সাইদার। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এবং হাতের অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়ায় তিনি কুড়িগ্রামের সেবা ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেখানে এক্স-রে করার পর তার হাতের ভেতরে দুটি কাঁচের টুকরোর অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
গত ৩০ অক্টোবর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার হাত থেকে কাঁচের টুকরো দুটি বের করা হয়। অর্থাৎ, ঘটনার প্রায় ৩৫ দিন পর তার হাতের ভেতরে থাকা কাঁচ অপসারণ করা সম্ভব হয়।
এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ওটা ভুলবশত হয়ে গেছে। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’
ঘটনাটি সামনে আসার পর সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জরুরি চিকিৎসাসেবার মান ও রোগীর ক্ষত যথাযথভাবে পরীক্ষা করার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

