
দৈনিক রিপোর্ট ডেস্ক:
দেশের সব ধরনের গণপরিবহনে শনিবার (১ আগস্ট) থেকে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস স্থাপন এবং সেটি সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। নতুন এ নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএস ছাড়া কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন দেওয়া হবে না এবং ফিটনেস সনদও নবায়ন করা হবে না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গত ২৮ জুলাই একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১১ জুন প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ১ আগস্ট থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো গণপরিবহনের নিবন্ধন বা ফিটনেস সনদ প্রদান কিংবা নবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট মালিককে জিপিএস ডিভাইস সংযোজনের প্রমাণপত্র বিআরটিএ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। এছাড়া নির্ধারিত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসটি সচল রয়েছে—এ বিষয়টিও প্রদর্শন করতে হবে।
বিআরটিএ আরও জানিয়েছে, অনুমোদিত জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি মান ও স্পেসিফিকেশন সংস্থাটির ওয়েবসাইট এবং স্থানীয় কার্যালয় থেকে জানা যাবে। নির্ধারিত মান অনুযায়ী ডিভাইস স্থাপনের পরই নিবন্ধন ও ফিটনেস-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্ত ও কার্যকর রয়েছে—এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ দেওয়া বা নবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণপরিবহনের রিয়েল-টাইম অবস্থান, চলাচলের গতি এবং নির্ধারিত রুট সহজে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ফলে বাসের রেষারেষি, নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কে বিশৃঙ্খলভাবে যানবাহন দাঁড় করানোর মতো সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়ক হতে পারে।
তবে পরিবহন মালিকদের একটি অংশের মতে, দেশের সব গণপরিবহনে প্রথম দিন থেকেই শতভাগ জিপিএস ব্যবস্থা কার্যকর করা বাস্তবিকভাবে কিছুটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা এ সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে মনে করলেও তাদের মতে, শুধু জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে না। এর পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি, কার্যকর আইন প্রয়োগ, জবাবদিহি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ এবং দক্ষ চালক নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
