দৈনিক রিপোর্ট ডেস্ক:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার কারণে তিনি ও তাঁর দলের নেতারা হামলার শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে তিনি আপাতত প্রকাশ্যে আর কোনো মন্তব্য করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অগ্নিঝরা জুলাই ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ বখতিয়ার বক্তব্য দেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, এ হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা দায়ী। তিনি আরও বলেন, নিজেও হামলার শিকার হয়েছেন এবং এ ধরনের ঘটনার পেছনে তাঁর বক্তব্যকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আপাতত নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এর আগে হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে পাল্টা কর্মসূচি দেয় বিএনপি ও ছাত্রদল। পরে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। এ অবস্থায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে যেতে না পেরে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, অভিযোগে কিছু তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হওয়ায় নতুনভাবে এফআইআর প্রস্তুত করা হচ্ছে। পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং সংশোধিত কপিটি দ্রুত পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে বলে অভিযোগ করেন এবং সরকারের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হবিগঞ্জের ঘটনায় আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর চিকিৎসার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে আর কোনো সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চান না।
এনসিপির এই নেতা আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো রাজনৈতিক সহিংসতার নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, দলটি গণভোটের রায়, সংস্কার, বিচার ও জনগণের অধিকার আদায়ের দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, নতুন রাজনৈতিক শক্তির বিকাশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর হামলার সংস্কৃতি ফিরে আসছে। এসব ঘটনার জবাব জনগণই দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
