রাজধানীর কদমতলীর মাতুয়াইলে পার্কিং করে রাখা শ্রাবণ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে মাতুয়াইল মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালের পাশে পার্কিং করা বাসটিতে আগুন দেওয়া হয়। তবে কারা এ অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান রাশেদ খাঁন।
শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নাশকতার অভিযোগ
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে একের পর এক অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। মাতুয়াইলে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে তিনি আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তদের কর্মকাণ্ড বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার পরও বিরোধী দল নীরব থাকলে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে কেউ আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিলে তাদেরও এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
বিরোধী দলকে রাজপথে নামার আহ্বান
রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে বিরোধী দলগুলোর প্রতি রাজপথে নেমে নাশকতাকারীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিরোধী দল দেশের মঙ্গল চাইলে গণহত্যার বিচার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করা উচিত।
একই পোস্টে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের গোষ্ঠীর কোনো সমঝোতা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
বাসে আগুনের ঘটনায় তদন্তের অপেক্ষা
মাতুয়াইলে শ্রাবণ পরিবহনের বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সামনে আসার অপেক্ষা রয়েছে।
সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে রাজধানীতে এ ধরনের অগ্নিসংযোগের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

