ঢাকার নবাবগঞ্জে অটোরিকশাচালক রাহুল হত্যা ও ডাকাতির ঘটনায় আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা জেলা। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. সবুজ মিয়া (২৮) ও মো. লালন মোল্লা (৪৩) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত রাহুল (১৯) নবাবগঞ্জের চক সিংহারা এলাকার বাসিন্দা এবং অটোরিকশা চালাতেন। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে তিনি অটোরিকশা রাখার একটি ওয়ার্কশপে ঘুমানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন ওয়ার্কশপে তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একই সঙ্গে বন্ধ পাওয়া যায় তার মোবাইল ফোন এবং খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না অটোরিকশাটিও।
এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ওয়ার্কশপের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে একটি জমির আইলসংলগ্ন স্থান থেকে রাহুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রাহুলের বাবা মো. আবদুর রহমান বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি পুলিশের কাছ থেকে পিবিআই ঢাকা জেলার কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং এসআই মো. আবদুর রহিমকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে প্রথমে মো. সগেজ (৩২)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দির সূত্র ধরে পরে খবির ওরফে গোবিন্দ (২৮), মো. হাবিব ওরফে সজল (৩৬) এবং মো. লালন মোল্লা (৪৩)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে সবুজ মিয়া ও লালন মোল্লা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্ত ও আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনায় পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার আসামিরা রাহুলের পূর্বপরিচিত ছিলেন। লালন মোল্লা ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং রাহুলসহ অন্যরা তার কাছ থেকে ইয়াবা কিনে সেবন করত। পরে রাহুল ইয়াবা বিক্রির তথ্য অন্যদের জানিয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। একই সঙ্গে তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করার পরিকল্পনাও করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে সবুজের মাধ্যমে রাহুলকে অটোরিকশাসহ নবাবগঞ্জ এলাকার একটি খোলা মাঠে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত অন্য আসামিরা প্রথমে তাকে ইয়াবা সেবন করায়। পরে লালন লোহার রড দিয়ে রাহুলের মাথায় আঘাত করে। এরপর ব্লেড দিয়ে কান ও মুখে আঘাত করা হয়। অটোরিকশার ব্যাটারি দিয়েও তার মুখে আঘাত করা হয় এবং শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
হত্যার পর রাহুলের মরদেহ অটোরিকশায় করে সজলের গরুর খামারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দুই দিন রাখা হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি রাতের দিকে মরদেহটি একটি ওয়ার্কশপের পাশে ফেলে রেখে যায় আসামিরা। পরে রাহুলের অটোরিকশাটি বিক্রি করে সেই টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় তারা।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এএনএম মোরশেদ, পিপিএম জানান, পুলিশ সদরদপ্তর থেকে মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। দীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশি সময়ের পুরোনো মামলায় জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পিবিআই।

