৮০ বছর বয়সী এক ইতালীয় নারীকে ২১ বছর বয়সী তুর্কি যুবকের বিয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বয়সের ৫৯ বছরের ব্যবধান এবং ইতালির নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নানা আলোচনাও চলছে। তবে খবরটির সঙ্গে প্রচারিত ভিডিও ও পরিচয়ের দাবিতে বিভ্রান্তির বিষয়টি উঠে এসেছে ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে।
ভাইরাল ভিডিওতে কারা রয়েছেন?
তুরস্কের এক যুবক ও ইতালীয় বৃদ্ধার বিয়ের প্রস্তাবের ভিডিও হিসেবে যেসব দৃশ্য ছড়িয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে ইতালীয় কনটেন্ট নির্মাতা জিউসেপ্পে ডি’আন্না এবং তাঁর দাদি মিলিনা গাত্তার ভিডিওর মিল পাওয়া যায়।
ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ফ্যানপেজের ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে জিউসেপ্পে জানান, তাঁদের সম্পর্ক দাদি ও নাতির। তাঁরা একসঙ্গে বসবাস করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনোদনমূলক ভিডিও তৈরি করেন। তাঁদের একটি ভিডিওকে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে ভুলভাবে বিয়ের প্রস্তাব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
বিয়ে ও নাগরিকত্বের দাবি কতটা সত্য?
সাম্প্রতিক সময়ে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, তুরস্কের এক যুবক ৮০ বছর বয়সী ইতালীয় নারীকে বিয়ে করেছেন এবং তাঁদের বয়সের ব্যবধান ৫৯ বছর। কোনো কোনো পোস্টে ইতালির নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রসঙ্গও তোলা হয়েছে।
তবে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশিত ফ্যাক্ট-চেক তথ্য এসব দাবির সঙ্গে মিলছে না। ওই যুবক ইতালীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন বা বিয়ের মাধ্যমে এমন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন দাবিরও নির্ভরযোগ্য স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুরোনো ভিডিও থেকে নতুন করে বিভ্রান্তি
বয়সের বড় ব্যবধানের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগেও এ ধরনের ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। ভিডিওর প্রকৃত প্রেক্ষাপট যাচাই না করে সেগুলোকে বাস্তব বিয়ে বা প্রেমের ঘটনা হিসেবে প্রকাশ করলে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তাই তুর্কি যুবক ও ইতালীয় নারীর বিয়ের খবরটি নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রচার করার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রে পরিচয় ও বিয়ের তথ্য যাচাই করা জরুরি।
তথ্যসূত্র: ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট মালুমাতফুরুস এবং ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ফ্যানপেজ।

