প্রতিনিধি, ভোলা
ভোলার মনপুরা উপজেলার মেঘনা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়েছে ১৫ কেজি ওজনের একটি বড় পাঙাশ মাছ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাছটি মনপুরার রামনেওয়াজ মৎস্যঘাটে তোলা হলে নিলামে ২০ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়।
জেলেদের মাছ ধরার জাল তুলতেই এত বড় পাঙাশটি ধরা পড়ে। মাছটি দেখতে স্থানীয় জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও উৎসুক মানুষ মাছঘাটে ভিড় করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলে আরিফ মাঝি মেঘনা নদীতে পাঙাশ ধরার জন্য জাল ফেলেন। পরে জাল তুলতে গিয়ে তিনি বড় মাছটি দেখতে পান। এরপর মাছটি রামনেওয়াজ এলাকার মোমিন তালুকদারের মৎস্য আড়তে নেওয়া হয়। সেখানে নিলামে মাছটি বিক্রি করা হয়।
মৎস্য ব্যবসায়ী ফিরোজ ও নাহিদের তথ্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি কেজি প্রায় ১ হাজার ৩৪০ টাকা দরে মাছটি কেনেন আড়তদার মোমিন তালুকদার। স্থানীয় বাজারে এত বড় আকারের পাঙাশ খুব কমই দেখা যায় বলে জানান তাঁরা।
মোমিন তালুকদার বলেন, মাছটি লঞ্চে করে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর পাইকারি বাজারে পাঠানো হবে। সেখানে আরও ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
জেলে আরিফ মাঝি বলেন, মেঘনায় পাঙাশ ধরার জন্য জাল ফেলেছিলেন। জাল তুলতেই বড় মাছটি ধরা পড়ে। পরে আড়তে এনে সেটি বিক্রি করেন তিনি।
স্থানীয় জেলেদের আশা, মৌসুম অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহে মেঘনা নদীতে আরও বড় আকারের মাছ ধরা পড়তে পারে। এতে তাঁদের আয়ও বাড়তে পারে।
চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমারের ভাষ্য, বর্ষায় মেঘনা নদীতে পানির গভীরতা ও স্রোত বাড়ায় বড় দেশীয় মাছ ধরা পড়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। তবে ১৫ কেজি ওজনের পাঙাশ সাধারণত খুব বেশি দেখা যায় না। এ কারণে এমন মাছ বাজারে উঠলে ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ে।
তিনি জানান, পাঙাশ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক মাছগুলোর একটি। দেশে খামারে পাঙাশের ব্যাপক উৎপাদন হলেও নদী থেকে ধরা বড় আকারের দেশীয় পাঙাশ তুলনামূলকভাবে কম পাওয়া যায়। আকার ও স্বাদের কারণে এসব মাছের দামও সাধারণ পাঙাশের তুলনায় বেশি।

