কুমিল্লা | ৭ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল খুরাইস এলাকায় হুথিদের হামলায় নিহত হয়েছেন মো. সজিব হোসেন নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী। ৪ অক্টোবর সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলার সময় ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের আঘাতে তিনি নিহত হন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সজিবের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার বাড়ি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারে শোকের আবহ
সজিবের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই তার গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও বাড়িতে গিয়ে তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সজিবের বাবা ও ভাইও সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তবে মরদেহ কবে দেশে ফিরবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময় জানা যায়নি।
মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা
সজিবের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদে তার পরিবারের সদস্য ও নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। দূতাবাস প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি মরদেহ দেশে পাঠাতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নিয়ে সমন্বয় করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সজিবের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে হামলার নিন্দা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
কী ঘটেছিল?
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল খুরাইস এলাকায় সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় ৪ অক্টোবর হামলা হয়। ওই হামলায় হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের আঘাতে সজিব হোসেন নিহত হন বলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর সৌদি আরবে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিহত সজিব সম্পর্কে যা জানা গেছে
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সজিব হোসেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে তার বয়স ২৬ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।
তার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পাশাপাশি মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে মরদেহ দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়া শেষ হলে সজিবের মরদেহ দেশে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

