কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে ঢেউ ও প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া পর্যটকদের মধ্যে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে মো. হারুনের মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন একজন।
বৃহস্পতিবার সকালে হিমছড়ির সাগর নিবাস এলাকা থেকে হারুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন রামুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ি জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে গোসল করতে নেমে ঢেউ ও স্রোতের কবলে পড়েন কয়েকজন পর্যটক। পরে স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকারীরা তাঁদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেন।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
ইউএনও জিল্লুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার উত্তরা থেকে সাত পর্যটক গত ১৮ অক্টোবর বান্দরবানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সেখানে দুই দিন ভ্রমণ শেষে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা কক্সবাজারে পৌঁছান।
দুপুরে হিমছড়ি এলাকার প্যাঁচার দ্বীপ জাদুঘরসংলগ্ন ‘সৌরণেষ্ট’ নামের একটি রিসোর্টে ওঠেন তাঁরা। খাওয়াদাওয়া শেষে বিকেল ৪টার দিকে জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে গোসল করতে নামেন।
এ সময় কয়েকজন পর্যটক প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে ভেসে যেতে থাকেন। তাঁদের উদ্ধার করতে কাছাকাছি থাকা আরও কয়েকজন এগিয়ে গেলে তাঁরাও স্রোতের কবলে পড়েন বলে জানান ইউএনও।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। অন্যদের উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়।
উদ্ধার অভিযানে বাড়ল মৃতের সংখ্যা
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, বুধবার প্রথমে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরেকজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে হিমছড়ি সৈকতের সাগর নিবাস এলাকা থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়ায়।
নিহতদের মধ্যে ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রোহান (২৩) ও শহীদুল ইসলাম (২৩) রয়েছেন। উদ্ধার করা মরদেহ ও নিখোঁজ পর্যটকদের পরিচয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
এখনো নিখোঁজ একজন
এ ঘটনায় নাফিসুল হক নিবিড় (২২) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর বাবার নাম নাবিবুর রহমান; তিনি ঢাকার আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা।
নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বান
সমুদ্রসৈকতে গোসলের সময় বড় ঢেউ ও প্রবল স্রোত মুহূর্তেই প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই সৈকতে নামার আগে সতর্কবার্তা, লাল পতাকা ও লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
বিশেষ করে সাঁতার না জানলে গভীর পানিতে নামা এবং প্রবল স্রোতযুক্ত এলাকায় গোসল করা থেকে বিরত থাকা উচিত। হিমছড়ির এই দুর্ঘটনা পর্যটকদের সমুদ্রসৈকতে নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।

