স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে মারা যাওয়া ছয়জনকেই সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যু হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। ফলে দেশে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬২ জনে। আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হয়েছে ১০১ জনের।
এক দিনে নতুন করে ১ হাজার ২২১ সন্দেহভাজন রোগী
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, একই ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১ হাজার ২২১টি নতুন সন্দেহভাজন হাম বা হামের উপসর্গের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এতে চলতি বছরে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৫।
এ ছাড়া নতুন করে ৮৪ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। ফলে এ বছর лаборатরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৬৪৬ জনে।
হাসপাতালে ভর্তি দেড় লাখের বেশি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ জন ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
২৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি
হামের প্রকোপের মধ্যে সরকার আবারও দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী এমন শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যারা আগের কর্মসূচিতে টিকা পায়নি অথবা সম্প্রতি টিকা নেওয়ার বয়সে এসেছে।
সরকার এর আগে এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী হামের টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করেছিল। পরবর্তী ভিটামিন-এ কর্মসূচিতে আগের টিকাদান কার্যক্রমে বাদ পড়া বিপুলসংখ্যক শিশুর তথ্য পাওয়া যায়। নতুন কর্মসূচিতে তাদের একটি অংশসহ নতুন করে টিকাদানের বয়সে আসা শিশুদেরও আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তথ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ: ১ হাজার ৬৩ জনের মোট সংখ্যাটি নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু নয়। এর মধ্যে ১০১টি মৃত্যু নিশ্চিত এবং ৯৬২টি সন্দেহভাজন হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকায় রয়েছে।

