আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন MQ-1 ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের নতুন একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটি শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোনটি হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় শনাক্ত করার পর আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনীর নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ভূপাতিত করা হয়।
MQ-1 আবার কেন ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ইরানের
আইআরজিসির বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বছর আগে MQ-1 ড্রোনের ব্যবহার কমিয়ে আরও উন্নত MQ-9 ড্রোনের দিকে চলে যায়। তবে ইরানের দাবি, বিপুলসংখ্যক MQ-9 ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আবার পুরোনো MQ-1 ব্যবহারে ফিরেছে।
MQ-1, যা ‘প্রিডেটর’ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি ও সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এর জায়গা নেয় আরও উন্নত MQ-9 রিপার।
ইরানের দাবি, তাদের নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা MQ-1 এবং MQ-9—দুই ধরনের ড্রোনের বিরুদ্ধেই কার্যকরভাবে কাজ করছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে উত্তেজনা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংঘাতকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এ অঞ্চলে সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে প্রণালিটি দিয়ে প্রায় এক ডজন পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে তার আগের সপ্তাহে সংখ্যা ছিল ৩৫টি।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথগুলোর একটি হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও নৌপরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলের অস্থিরতার কারণে তেল সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে ইরানের MQ-1 ড্রোন ভূপাতিতের দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

