ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের একটি এজলাস থেকে শরিফুল ইসলাম শফিক নামের এক আসামি আবারও পালিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আদালতের ৭ নম্বর এজলাস থেকে পুলিশের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি পালিয়ে যান।
এটি তাঁর আদালত থেকে পালানোর দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ২০২৫ সালেও একই আসামি আদালত থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
পুলিশের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পালানো
মঙ্গলবার সিএমএম আদালতের ৭ নম্বর এজলাসে মামলার কার্যক্রম চলাকালে শরিফুল ইসলাম শফিক পালিয়ে যান। প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে পুলিশের অবহেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পালানোর পর আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়। তবে আসামিকে কোথা থেকে এবং কীভাবে পালানোর সুযোগ দেওয়া হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগেও একই ঘটনা
শরিফুল ইসলাম শফিক এর আগে ২০২৫ সালেও আদালত থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয় এবং পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।
কিন্তু এবার সেই মামলায় আদালতে আনার পর আবারও এজলাস থেকে পালিয়ে গেলেন তিনি। অর্থাৎ একই আসামি দুই দফায় আদালত থেকে পালানোর ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আদালতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
একই আসামির দ্বিতীয়বার আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতকক্ষের নিরাপত্তা ও আসামি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন আসামি কীভাবে এজলাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
একই ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
এখন আসামিকে ধরতে অভিযান
শরিফুল ইসলাম শফিক পালিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে আসামি আনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একই আসামির দ্বিতীয়বার আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ভবিষ্যতে আদালতে আসামি হাজির করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

