রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট এবং মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও দুই ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী বা মূল ব্যক্তিদের এখনো আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।
নিউগিনি প্রপার্টিজের ঘটনায় দুই অস্ত্রধারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ওই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নাম এসেছে। তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত শনিবার দিবাগত রাতে নিউগিনি প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। তাঁর স্টুডিওতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিউগিনি প্রপার্টিজের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লিয়াকত আলী। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
অন্যদিকে, মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকার রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়। ওই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) এ ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার সময় কারা এক্সক্যাভেটর এনেছিলেন এবং কারা এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটর উদ্ধারে অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজন টাকার বিনিময়ে ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন। সর্বশেষ গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামালও উদ্ধারের কথা জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।
নিউগিনি প্রপার্টিজের ঘটনায়ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাস্থলে হামলাকারীদের সংগঠিত করা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা শনাক্তের চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
