ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের বিরুদ্ধে গত অক্টোবর মাসে ৪০ হাজারের বেশি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকার। এসব অভিযানে প্রায় ২০ হাজার হুথি যোদ্ধা ও কমান্ডার নিহত, আহত কিংবা যুদ্ধের সক্ষমতা হারিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ অক্টোবর ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ শুরু হওয়ার পর থেকে হুথিদের বিভিন্ন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করছে সরকারি বাহিনী।
এক বিবৃতিতে কাউন্সিল জানিয়েছে, অভিযান শুরুর পর থেকে বিভিন্ন রণাঙ্গনে মোট ৪০ হাজার ৭৬১টি সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার হুথি যোদ্ধা ও কমান্ডার নিহত, আহত অথবা অন্য কোনোভাবে যুদ্ধের সক্ষমতা হারিয়েছেন।
তবে ইয়েমেন সরকারের এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি হুথি বিদ্রোহীরা।
অপারেশন ডন অব ইয়েমেন কী?
গত ৫ অক্টোবর হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল পুনরুদ্ধার এবং পুরো দেশে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামরিক অভিযান শুরু করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার।
সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনীর এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’। এর লক্ষ্য রাজধানী সানাসহ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধার করা।
হুথিরা ২০১৪ সালের শেষ দিকে রাজধানী সানা দখলের পর থেকে ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
হতাহতের সংখ্যা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা
ইয়েমেন সরকারের দাবি অনুযায়ী, অভিযান শুরুর প্রথম মাসেই হুথিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে হতাহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আল জাজিরার ৫ নভেম্বর প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের শেষ দিকে ইয়েমেন সরকার ১৬ হাজার ১০০ হুথি যোদ্ধা ও কমান্ডার নিহত বা আহত হওয়ার দাবি করেছিল। অন্যদিকে হুথিরা নিজেদের হতাহতের মোট সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।
এদিকে সামরিক সংঘাতের মধ্যেও হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
সব মিলিয়ে অক্টোবরজুড়ে ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

