ইরানের তেল রপ্তানি ও দেশটির নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত বিমান সংস্থাগুলোকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কের কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তালিকায় ভারতের কয়েকজন নাগরিক, তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং তুরস্কভিত্তিক একটি বিমানসেবা কোম্পানি রয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ভারতভিত্তিক একটি চক্র ভুয়া জাহাজ নিবন্ধন, পতাকা ও সামুদ্রিক সনদ ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে, তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি বিমান সংস্থাকে বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।
ভারতের দম্পতির বিরুদ্ধে জাল জাহাজ নিবন্ধনের অভিযোগ
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের চণ্ডীগড়ভিত্তিক সুনীল কুমার শর্মা ও তার স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহিদকে কেন্দ্র করে এই নেটওয়ার্ক পরিচালিত হতো। তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুই ভারতীয় নাগরিক এবং নয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই দম্পতি গায়ানা, এসওয়াতিনি ও লাওসসহ বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতেন। এসব দেশের অনুমোদন ছাড়াই তাদের নামে জাহাজ নিবন্ধন, পতাকা ও বিভিন্ন সামুদ্রিক সনদ দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।
এর মাধ্যমে ইরানের তেল পরিবহনকারী নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলাচলের সুযোগ পেত বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তত ২০১৪ সাল থেকে এই কার্যক্রম চলে আসছিল। বিভিন্ন দেশের সরকারি জাহাজ নিবন্ধন সংস্থার আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করেও চক্রটি কাজ করত।
তুরস্কের বিমানসেবা প্রতিষ্ঠানও নিষেধাজ্ঞার তালিকায়
ভারতের পাশাপাশি তুরস্কভিত্তিক ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি ইরানের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত কয়েকটি বিমান সংস্থাকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও অন্যান্য বিমানসেবা দিয়ে আসছিল। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে ইরান এয়ার ট্যুর, সাহা এয়ারলাইনস, সেপেহরান এয়ারলাইনস, ভারেশ এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস ও আতা এয়ারলাইনস।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসব বিমান সংস্থা তুরস্কে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা?
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ইরানের তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় সীমিত করা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর বিভিন্ন নেটওয়ার্ক বন্ধ করা।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানকে সহায়তাকারী যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওএফএসি) আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভুয়া পতাকা ব্যবহারকারী জাহাজের সঙ্গে ব্যবসা করার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ থাকবে। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের জন্য তাদের সঙ্গে সাধারণভাবে ব্যবসায়িক লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইরানের তেল পরিবহন ও বিমান খাতে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপকে তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
