নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে যাতায়াতের প্রধান সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকেরা। স্থানীয় দুটি সংগঠনের ডাকা এ কর্মসূচিতে সাজেকে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঘুরতে আসা সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির যৌথ বিবৃতিতে অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। রোববার (১১ অক্টোবর) থেকে এ কর্মসূচি কার্যকর করা হয়েছে।
কেন অবরোধের ডাক?
সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা যৌথ বিবৃতিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে সংগঠন দুটি ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল। নির্ধারিত সময় শনিবার দুপুর ১২টায় শেষ হওয়ার পর অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংগঠন দুটির অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সদস্যদের সাজেকে অবস্থানের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সাজেক থেকে ওই গোষ্ঠীর সদস্যদের সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
পাহাড়ে গোলাগুলির ঘটনায় উদ্বেগ
স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক মাস ধরে পাহাড়ের দুটি সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাজেক ইউনিয়নের চাইল্যাতলী এলাকায় দুই পক্ষের গোলাগুলির সময় সঞ্জিতা ত্রিপুরা নামে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আটকে পড়েছেন সহস্রাধিক পর্যটক
অবরোধের কারণে সাজেকে বেড়াতে আসা পর্যটকদের যাতায়াতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, অবরোধের কারণে পর্যটকবাহী গাড়ির চলাচলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার পর্যটকদের ফেরাতে নিয়মিত দুইবারের পরিবর্তে দুপুর ২টায় একবার নিরাপত্তা স্কর্ট পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়। তবে অবরোধ কবে প্রত্যাহার করা হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান এবং পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।

