সর্দি-কাশি সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ থাকা, হাঁচি, গলা ব্যথা ও কাশি এর সাধারণ উপসর্গ। রাইনোভাইরাস সর্দির অন্যতম সাধারণ কারণ। ফ্লু, কোভিড-১৯ ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসেও একই ধরনের কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে, তবে সেগুলো সাধারণ সর্দির সঙ্গে এক নয়।
কীভাবে ছড়ায়
হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ানো জীবাণু, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এবং দূষিত বস্তু বা পৃষ্ঠ স্পর্শ করে পরে চোখ, নাক বা মুখে হাত দেওয়ার মাধ্যমে শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস ছড়াতে পারে।
সাধারণ উপসর্গ
সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা দিতে পারে—
- নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ থাকা
- হাঁচি
- গলা ব্যথা বা খুসখুস করা
- কাশি
- মাথাব্যথা বা শরীর ব্যথা
- দুর্বলতা বা ক্লান্তি
- হালকা জ্বর
সর্দির উপসর্গ সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে বেশি স্পষ্ট হয় এবং অধিকাংশ মানুষ সময়ের সঙ্গে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
ঘরোয়া যত্নে যা করতে পারেন
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং পানি ও অন্যান্য তরল পান করা উপকারী। গলা ব্যথা হলে কুসুম গরম লবণ পানিতে গার্গল করা যেতে পারে। কাশিতে এক বছরের বেশি বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মধু কিছুটা উপশম দিতে পারে। নাক বন্ধ থাকলে স্যালাইন নাকের স্প্রে বা ড্রপ এবং আর্দ্রতা বাড়ানোর ব্যবস্থা উপকারী হতে পারে।
জ্বর বা শরীর ব্যথার মতো উপসর্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ওষুধের ধরন ও মাত্রা বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং অন্য ওষুধ ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে—প্রয়োজনে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অ্যান্টিবায়োটিক কি প্রয়োজন?
সাধারণ সর্দি-কাশি ভাইরাসের কারণে হলে অ্যান্টিবায়োটিক উপকার করে না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা উচিত নয়। কোনো ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ শনাক্ত হলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ, কয়েক দিন ধরে জ্বর থাকা, ১০ দিনের পরও উপসর্গ না কমা, অথবা কিছুটা ভালো হওয়ার পর আবার জ্বর বা কাশি বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ থাকলেও দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখা, অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি অপ্রয়োজনীয় সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেও সতর্ক থাকা জরুরি।
পরামর্শ: তীব্র বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

