নিজস্ব প্রতিবেদক, শিবচর (মাদারীপুর)
পদ্মা সেতু হয়ে মাদারীপুরের শিবচর থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত রেললাইন স্থানীয়দের জন্য ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। রেল কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রেললাইনে হাঁটাহাঁটি, আড্ডা ও ছবি তুলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
শিবচর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত শিবচর অংশে রেলে কাটা পড়ে ৩৬ জনের বেশি মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন ছবি তুলতে বা ঘুরতে এসে প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদের মৃত্যু হয়েছে রেললাইন পারাপার এবং আত্মহত্যাজনিত ঘটনায়।
পদ্মা সেতুর জাজিরা পয়েন্ট থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথের দৈর্ঘ্য ৩১ কিলোমিটার। এ পথে মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় পদ্মা ও শিবচর নামে দুটি স্টেশন রয়েছে। এই রুট দিয়ে ঢাকা কমলাপুর থেকে রাজশাহী, খুলনা ও বেনাপোলগামী ট্রেন চলাচল করে।
বিকেল হলেই রেললাইনে ভিড়
নতুন রেললাইন নির্মাণের পর থেকেই এ এলাকায় স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। বিকেলের পর রেললাইনের বিভিন্ন স্থান অনেকটা বিনোদনকেন্দ্রের মতো হয়ে ওঠে।
শিবচরের পাঁচ্চর, সূর্যনগর, মালিগ্রাম ও পুলিয়া এলাকায় বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনেক মানুষ রেললাইনের ওপর বসে আড্ডা দেন। কেউ কেউ ছবি তোলেন, আবার অনেকে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটাহাঁটি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রেললাইনের বিভিন্ন অংশ অরক্ষিত থাকা, মানুষের অসচেতনতা এবং দ্রুতগতির ট্রেন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
বেড়া ও টহল জোরদারের দাবি
দুর্ঘটনা কমাতে রেললাইনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বেড়া দেওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যার পর নিরাপত্তা ও টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. সেলিম হোসেন বলেন, ঢাকা-বেনাপোল রুটটি অত্যন্ত ব্যস্ত ও গতিশীল। রেললাইনে অযথা চলাচল বন্ধে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রেললাইনে হাঁটাহাঁটি না করার জন্য মানুষকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। তবে মানুষ সচেতন না হলে দুর্ঘটনা পুরোপুরি ঠেকানো কঠিন।

