উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এই জয়ে প্রতিযোগিতায় টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল হোসে মরিনিওর দল।
রিয়ালের হয়ে গোল করেছেন বার্নার্দো সিলভা, আরদা গুলের, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইয়ান দিওমান্দে। লাইপজিগের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন তিদিয়াম গোমিস। চ্যাম্পিয়নস লিগে দাপুটে এই জয়ের পর এবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোর প্রস্তুতি নেবে রিয়াল।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যায় রিয়াল
ম্যাচের শুরুতে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। রিয়ালের আক্রমণ সামলানোর পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে লাইপজিগও।
২৮ মিনিটে রোমুলোর শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। প্রথমার্ধের ৪১ মিনিটে ক্রিস্টোফার এনকুনকুর প্রচেষ্টাও রুখে দেন বেলজিয়ান এই গোলরক্ষক।
এরপর ৪৩ মিনিটে গোলের দেখা পায় রিয়াল। আরদা গুলেরের শট ফিরিয়ে দেন লাইপজিগের গোলরক্ষক মার্টেন ফানডেভুর্ট। ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠান পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা। রিয়ালের হয়ে এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল। এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকেরা। <Cite refs={[“turn995876search0″,”turn995876search1”]}/>
দ্বিতীয়ার্ধে গুলের ও এমবাপ্পের গোল
বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ৫২ মিনিটে জুড বেলিংহামের ক্রস থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তুরস্কের তরুণ ফুটবলার আরদা গুলের।
এরপর ৮৩ মিনিটে রিয়ালের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বাঁকানো শটে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান ফরাসি ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচে এটি ছিল তাঁর ১২তম গোল বলে ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লাইপজিগের গোল, দিওমান্দের জবাব
৮৫ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় তিদিয়াম গোমিস লাইপজিগের হয়ে একটি গোল শোধ করেন। তবে ব্যবধান কমানোর আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি জার্মান দলটির।
৮৭ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের ক্রস থেকে দৃষ্টিনন্দন ভলিতে রিয়ালের চতুর্থ গোলটি করেন ইয়ান দিওমান্দে। তাতেই ৪-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।
চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তিন জয় রিয়ালের
লাইপজিগকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে টানা তিন ম্যাচে জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিযোগিতায় শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখে পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে দলটি।
অন্যদিকে, এই হারে লাইপজিগের অবস্থান নেমে গেছে তালিকার নিচের দিকে। দুই ম্যাচে ১০ গোল হজম করায় জার্মান দলটির জন্য পরবর্তী ম্যাচগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এবার এল ক্লাসিকোর অপেক্ষা
চ্যাম্পিয়নস লিগে দাপুটে জয়ের পর রিয়ালের সামনে এবার মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো। আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) বার্সেলোনার মাঠে মুখোমুখি হবে স্পেনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব।
লাইপজিগের বিপক্ষে চার গোলের জয় মরিনিওর দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। তবে বার্সেলোনার বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের আগে রিয়ালকে নিজেদের খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।

