রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভবন ভাঙচুরের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলার আগে কয়েকজনকে বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে দেখা যায় এবং ঘটনার সময় একটি সাদা মাইক্রোবাসও ঘটনাস্থলের আশপাশে চলাচল করছিল।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফল আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালায়। এ সময় দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করা এবং চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধ ও টিকা உள்ளிட்ட বিভিন্ন সামগ্রী লুটের অভিযোগ রয়েছে।
পরে একটি ইটের ভবন ও তিনটি সেমি-পাকা ভবনসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা এক্সকাভেটর দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই আবার স্বাস্থ্যসেবা
ভাঙচুরের পরও সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালু করেছে রাড্ডা কর্তৃপক্ষ। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের একটি কক্ষে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম চলছে। ভাঙা ইট ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে কিছু কক্ষে টেবিল-চেয়ার বসানো হয়েছে।
রাড্ডা কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনের গেট সরিয়ে দেওয়ার পর সোমবার সকাল থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয় এবং সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সীমিত পরিসরে টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হয়। ওই দিন ৬৭ জন সেবা নিতে এসেছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ১২
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় গুদারাঘাট ও কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা পুলিশ। তারা হলেন মো. মিন্টু ও মো. মিলন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার রাতে তারা ভাঙচুর ও লুটপাটে অংশ নিয়েছিলেন।
এ নিয়ে ঘটনায় মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে লুট হওয়া আসবাব, টিকা, নথি, ফ্রিজ, প্রিন্টার, জেনারেটর ও দুটি কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তের আশ্বাস পুলিশের
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার সালেহ মুহাম্মদ জাকারিয়া জানিয়েছেন, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন সংগঠন রাড্ডা কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবি
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভবন ধ্বংসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে নিম্নআয়ের মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আসক হামলার সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত পুনরায় স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে।

