যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো উদ্যোগে ইরানের জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থও সুরক্ষিত রাখতে হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মহসিন রেজাইয়ের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব কথা বলেন মোজতবা খামেনি। বৈঠকে দেশটির বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চলমান সংকট নিরসনে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্তে অনড় তেহরান
বৈঠকে মোজতবা খামেনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটানোর প্রক্রিয়ায় ইরানের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে তথাকথিত ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’-এর স্বার্থও নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তেহরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য হবে না—এমন অবস্থানই তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
জাতীয় নিরাপত্তায় সমন্বয়ের নির্দেশ
রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মোজতবা খামেনি। তিনি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের নির্দেশ দেন।
এ ছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে যোগাযোগ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সংঘাতের অবসান নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার তথ্য দেওয়া হয়নি। ইরানের শর্তগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলাফল পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

