আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের আর আস্থা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। আগের দফার আলোচনার পর হামলা ও নিষেধাজ্ঞার ঘটনা ঘটায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়ার বিষয়ে ইরানের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কী ভিত্তিতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে ওয়াশিংটনের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথম চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।
ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল পুনরায় চালুর কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় এবং অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
হরমুজ বন্ধের কারণ নিয়ে ইরানের ব্যাখ্যা
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার জন্য ইরানকে দায়ী করা হলে তা অস্বীকার করেছেন পেজেশকিয়ান। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামনে সব পথ বন্ধ করে দেওয়ার পরই প্রণালিটি বন্ধ করা হয়েছে এবং এটিকে তিনি ‘স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, শক্তি প্রয়োগের বদলে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করা সম্ভব। যুদ্ধ শেষ হলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতের আগ্রাসী পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরও ইরান প্রতিরোধ করে যাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক চাপ বা সামরিক নেতাদের হত্যার মাধ্যমে তাদের পিছু হটানো সম্ভব হয়নি।
ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটনের কাছে তেহরানের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। আলোচনার ভিত্তি হিসেবে দুই দেশের মধ্যে আগে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের কথাও উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান।

