আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের আগে নয়াদিল্লি ও বেইজিংকে দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য যথাযথভাবে সামাল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালনা, যোগাযোগ বাড়ানো এবং সহযোগিতা গভীর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দেশটি।
শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ভারত ও চীনকে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কৌশলগত উচ্চতা ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা, যোগাযোগ জোরদার করা, সহযোগিতা বাড়ানো এবং মতপার্থক্য যথাযথভাবে সামাল দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বেইজিং চায় ভারত ও চীন ‘ভালো প্রতিবেশী হিসেবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ বজায় রাখুক এবং একে অপরের সাফল্যে সহযোগী অংশীদার হিসেবে কাজ করুক।
প্রায় সাত বছর পর ভারতে শি
শনিবার ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর কথা শি জিনপিংয়ের। প্রায় সাত বছর পর এটি হবে তাঁর প্রথম ভারত সফর। সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে।
মাও নিং জানান, কাজান ও তিয়ানজিনে বৈঠকের পর টানা তৃতীয় বছর মোদি ও শির সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে। ফলে আসন্ন বৈঠকটি দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনায় অগ্রগতি
২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে সীমান্তে সংঘাতের পর ভারত-চীন সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনার মধ্যে ছিল। সম্প্রতি দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি করেছে।
শির ভারত সফরের আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত মাসে বেইজিংয়ে সীমান্ত ইস্যু, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
আগস্টের ২৫ তারিখ বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম বৈঠকেও সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে ‘আর্লি অ্যান্ড সাবস্ট্যানশিয়াল হারভেস্ট’ বা দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কিছু অগ্রাধিকারের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আট দফা সমঝোতা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি-শি বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ব্রিকস নিয়ে চীনের অবস্থান
ব্রিকসকে উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সংহতি ও সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
তিনি বলেন, শি জিনপিং সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, ব্রিকসের কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং বাস্তব সহযোগিতা গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো চলমান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে এবারের ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে চীন অভিন্ন, সমন্বিত, সহযোগিতামূলক ও টেকসই নিরাপত্তাব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
মাও নিং বলেন, চীন সংলাপের মাধ্যমে বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ ইস্যুর রাজনৈতিক সমাধান চায়। ব্রিকসের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কাজ করতে চায় বেইজিং।
ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের নেতৃত্ব
ভারতের সভাপতিত্বে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ভারত এর আগে ২০১২, ২০১৬ ও ২০২১ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব করেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি দেশটি চতুর্থবারের মতো জোটটির সভাপতির দায়িত্ব নেয়।
২০২৬ সালে ব্রিকস প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ফলে এবারের সম্মেলন শুধু ভারত-চীন সম্পর্কের জন্য নয়, সম্প্রসারিত ব্রিকসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

