রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর সীমিত পরিসরে আবার স্বাস্থ্যসেবা চালু হয়েছে। তবে কেন্দ্রটির বিভিন্ন অংশ এখনো ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি শুরু করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার কেন্দ্রটি পরিদর্শনে দেখা যায়, একটি কক্ষ পরিষ্কার করে সেখানে সীমিত পরিসরে টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। ওই কক্ষে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও সিলিং ফ্যান বসানো হয়েছে। অন্য কয়েকটি কক্ষেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হয়েছে। তবে এখনো পানি সংযোগ পুরোপুরি চালু হয়নি এবং শৌচাগারের সংস্কারকাজও শেষ হয়নি। বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসের চিহ্নও রয়েছে।
মিরপুরের বাসিন্দা তুহিন খান তাঁর ১৬ মাস বয়সী ছেলে তাহানকে টিকা দিতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন। তিনি বলেন, হামলার আগের পরিবেশের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কোনো তুলনা হয় না। আগে এখানে এসে ভালো সেবা পাওয়া যেত, কিন্তু এখন জায়গাটি অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে।
হামলার পর গত শনিবার থেকে সীমিত পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম চালু হয়। প্রথম দুই দিন কেন্দ্রের বাইরে ত্রিপল টানিয়ে সেবা দেওয়া হলেও সোমবার থেকে কেন্দ্রটির ক্ষতিগ্রস্ত একটি কক্ষ ব্যবহার করে টিকাদান শুরু হয়।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আক্তার জানান, বর্তমানে একটি কক্ষে সরকারি টিকাদান কর্মসূচি ও হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব সাধারণ স্বাস্থ্যসেবায় রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রয়োজন হয় না, সেসব সেবাও সীমিতভাবে চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গর্ভবতী মায়েদের সেবা, প্রসব-পরবর্তী চিকিৎসা, কিশোর স্বাস্থ্যসেবা, প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টিসেবা পুরোপুরি চালু করতে অবকাঠামো সংস্কার জরুরি। এজন্য পানি, বিদ্যুৎ, শৌচাগার ও রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।
নাসরিন আক্তার আরও জানান, কেন্দ্রটি দ্রুত সংস্কার করে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কাজ এবং শৌচাগার সংস্কারের কাজও শুরু হয়েছে।
এদিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মঙ্গলবার সকালে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, এটি শুধু ভাঙচুরের ঘটনা নয়; কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ইট, কাঠ, সিমেন্ট ও রডসহ বিভিন্ন জিনিস লুট করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
মান্না আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বা জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। হামলার ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং কারা জড়িত ছিল, তা তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন। তাঁর ৯৯৯-এ একাধিকবার ফোন করে সাড়া না পাওয়ার দাবিটি অবশ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
হামলা ও ভাঙচুরের পর কেন্দ্রটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে এবং আগের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

