হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বর্তমানের তুলনায় তিন গুণ বেশি হতো বলে দাবি করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দাম কমতে শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের একটি টাউন হল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ভ্যান্স। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য ইরানকে দায়ী করলেন ভ্যান্স
ভ্যান্স স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে পেট্রোলের দাম অনেক বেশি। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ সচল রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
ভ্যান্সের দাবি, মার্কিন নৌবাহিনী ওই নৌপথে জাহাজ চলাচল সচল রাখার চেষ্টা না করলে জ্বালানির দাম আরও অনেক বেশি হতো।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি থেকে সরে যায় এবং ইরানকে ওই পথে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে দেয়, তাহলে মার্কিন নাগরিকদের পেট্রোল কিনতে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জন্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলাকে দায়ী করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
যুদ্ধ শেষ হলে কমতে পারে তেলের দাম
ভ্যান্স আশা প্রকাশ করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম কমতে শুরু করবে। তবে দাম কতটা কমবে বা স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি তিনি।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ
ভ্যান্স জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন সচল রাখা ওয়াশিংটনের অন্যতম অগ্রাধিকার। পাশাপাশি ইরান যেন ভবিষ্যতে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করতে না পারে, সে বিষয়ে দেশটির কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ও যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতি আদায় করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, জ্বালানির দাম কমানোর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণও যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।
তবে পেট্রোলের দাম ভবিষ্যতে কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে সংঘাতের গতিপ্রকৃতি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতির ওপর।
তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ

