ভাবুন, আপনি একদিন সকালে দৌড়াচ্ছেন। হঠাৎ পাশ কাটিয়ে আপনাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেল একজন দৌড়বিদ। পরে বুঝলেন, সে মানুষ নয়—দুই পায়ে হাঁটা ও দৌড়াতে সক্ষম একটি রোবট। একসময় এমন দৃশ্য কেবল কল্পবিজ্ঞানের গল্পেই দেখা যেত। কিন্তু রোবট প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির ফলে তা এখন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
রোবোটিকস প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি সম্প্রতি তাদের দুই পায়ের রোবটের সক্ষমতার নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রোবটগুলো বোর্ডওয়াক ধরে এগিয়ে যাচ্ছে, অসমতল জায়গা পার হচ্ছে এবং একপর্যায়ে একজন মানব দৌড়বিদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাকে অতিক্রম করছে।
অসমতল পথেও চলছে রোবট
ভিডিওতে রোবটগুলোর চলাফেরার ধরন আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে। সমতল জায়গায় হাঁটার পাশাপাশি তারা অসমতল ভূখণ্ডেও ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে পারছে। বিশেষ করে দৌড়ানোর সময় শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখার সক্ষমতা রোবটগুলোর উন্নত নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে ভিডিও দেখেই রোবটের প্রকৃত গতি বা সক্ষমতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। প্রকাশিত ফুটেজে রোবটগুলো কত সময় ধরে এই কাজ অনবরত করতে পেরেছে, সেটি স্পষ্ট নয়। ফলে বাস্তব পরিস্থিতিতে তাদের দীর্ঘসময় দৌড়ানোর সক্ষমতা এখনো আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন।
উন্নত সেন্সর ও ভিশন প্রযুক্তি
ইউনিট্রির G1 মডেলের রোবটটিতে উন্নত পরিবেশ-অনুধাবন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাতার তথ্য অনুযায়ী, এতে লিডার (LiDAR) এবং গভীরতা বোঝার সক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা রয়েছে। এসব সেন্সরের মাধ্যমে রোবট তার আশপাশের পরিবেশ, দূরত্ব ও পথের পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
এই ধরনের প্রযুক্তি রোবটকে কেবল নির্দেশনা অনুযায়ী সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পরিবেশ বুঝে চলাফেরা করতে সাহায্য করে। ফলে অসমতল মাটি, বিভিন্ন বাধা কিংবা পথের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য করার ক্ষমতাও বাড়ছে।
কল্পবিজ্ঞান থেকে বাস্তবের পথে
মানুষের মতো দুই পায়ে হাঁটা বা দৌড়াতে সক্ষম রোবট বহুদিন ধরেই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু দৌড়ানোর ক্ষেত্রে ভারসাম্য, গতি নিয়ন্ত্রণ, শক্তি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ বোঝার মতো বিষয়গুলো প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল।
সাম্প্রতিক অগ্রগতি দেখাচ্ছে, এসব বাধা ধীরে ধীরে অতিক্রম করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি শিল্পকারখানা, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ এবং বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় সেবায় ব্যবহার হতে পারে।
তবে মানুষের মতো চলাফেরা করতে সক্ষম রোবট যত উন্নত হচ্ছে, ততই তাদের নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি এর দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়টিও সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে।
source: https://www.insidehook.com/culture/robots-two-legs-running-better-terrain

