মাগুরার আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।
হাইকোর্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ, তাঁর আপিল খারিজ এবং জেল আপিল নিষ্পত্তি করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। হিটু শেখ ধর্ষণের শিকার আট বছর বয়সী শিশুটির বোনের শ্বশুর।
যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা
২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল শিশুটি। ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে ১৩ মার্চ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
ঘটনার দুই দিন পর, ৮ মার্চ শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
তদন্ত শেষে মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১৭ এপ্রিল মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
বিচারিক আদালতের রায়
২০২৫ সালের ১৭ মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় দেন। রায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য বিচারিক আদালতের রায়ের নথি একই বছরের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। অন্যদিকে হিটু শেখ ২৫ জুন হাইকোর্টে আপিল করেন। পরে আদালত তাঁর আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিল শুনানির জন্য গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে গত ১১ আগস্ট এ মামলার শুনানি শুরু হয়। কয়েক দফা শুনানি শেষে ২৫ আগস্ট রায়ের জন্য ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছিল।
সোমবার সেই রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

