নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা
ভোলার প্রতিটি গ্রামে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। একই সঙ্গে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে সরকারি ঋণের পরিমাণ প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে ভোলার ইলিশায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘ইলিশা বায়োগ্যাস পল্লী’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল হক বলেন, দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানির উৎস হিসেবে বায়োগ্যাসের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। শুধু ভোলা নয়, দেশের যেসব এলাকায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের সুযোগ রয়েছে, সেসব জায়গাতেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে বড় ধরনের অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না। প্রায় তিনটি গরুর বর্জ্য দিয়েও একটি ছোট প্ল্যান্ট স্থাপন করা সম্ভব। ফলে গবাদিপশু কিংবা হাঁস-মুরগি পালনকারী পরিবারগুলো নিজেদের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে।
সরকারি ঋণ সহায়তার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ ঋণের সুদের হার প্রথম পর্যায়ে ৫ শতাংশ এবং পরবর্তী সময়ে তা কমে আড়াই শতাংশে নেমে আসে। প্রয়োজন বিবেচনায় ঋণের পরিমাণ আরও বাড়ানো যায় কি না, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইলিশা বায়োগ্যাস পল্লীর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে আটটি গরুর গোবর ব্যবহার করে প্রায় ২০০ ঘনফুট ক্ষমতার একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। উদ্যোক্তা নিজে ব্যবহার করার পাশাপাশি আশপাশের মানুষকেও এর সুবিধা দিচ্ছেন। এতে জ্বালানি খরচ কমার পাশাপাশি আয় ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, বায়োগ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে জ্বালানির বিকল্প উৎস তৈরি হবে, অন্যদিকে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে। স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান তৈরিতেও এ প্রযুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি জানান, ভোলার যেসব পরিবার গবাদিপশু বা হাঁস-মুরগি পালন করে, তাদের মধ্যে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। এ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে স্থাপিত সফল বায়োগ্যাস প্ল্যান্টগুলোর তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি সরকারি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

