ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে টেলিভিশন বিতর্কে মুখোমুখি হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বোলসোনারো। জীবনযাত্রার ব্যয়, দুর্নীতি, জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতির পাশাপাশি বিতর্কে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত আক্রমণও। আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ভোটারদের মন জয় করাই এখন দুই প্রার্থীর প্রধান লক্ষ্য।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) টিভি গ্লোবোয় অনুষ্ঠিত প্রায় দুই ঘণ্টার এই বিতর্কে দুই নেতা নিজেদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটে ফ্লাভিও এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক জরিপে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
বিতর্কে লুলা তাঁর সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্য কমাতে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে ফ্লাভিও বোলসোনারো অভিযোগ করেন, লুলার শাসনামলে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। করনীতি ও সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
দুই প্রার্থীই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তবে ভোটারদের কাছে তাঁদের বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য হয়েছে, তা বোঝার জন্য নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
‘নয় আঙুল’ মন্তব্যে বিতর্ক
বিতর্কের একপর্যায়ে ফ্লাভিও লুলাকে ‘নয় আঙুল’ বলে কটাক্ষ করেন। তরুণ বয়সে কারখানায় কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় লুলার বাঁ হাতের একটি আঙুলের অংশ হারিয়ে যায়।
এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে লুলা ফ্লাভিওর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। পরে ফ্লাভিও দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি জননিরাপত্তা, ঋণ ও সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে লুলার কাছে জবাব চান।
ঘটনাটি বিতর্কে ব্যক্তিগত আক্রমণের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে। নীতিগত আলোচনার পাশাপাশি প্রার্থীদের বক্তব্যের ধরনও নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে ওঠে।
দুর্নীতির অভিযোগেও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়
বিতর্কের শেষ দিকে দুই নেতা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে পরস্পরকে প্রশ্ন করেন। লুলা ব্যাংক মাস্টার-সংশ্লিষ্ট কেলেঙ্কারিতে ফ্লাভিওর কথিত যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে ফ্লাভিও লুলার ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা পেনশন জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আনেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বিতর্কে উত্থাপিত বক্তব্যগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন; এগুলোকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।
ভোটের আগে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ?
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। লুলা তাঁর সামাজিক কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক উদ্যোগের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। ফ্লাভিও জোর দিয়েছেন জীবনযাত্রার ব্যয়, করনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের ওপর।
প্রথম দফার ভোটে ফ্লাভিও বোলসোনারো ৪৭.০৩ শতাংশ এবং লুলা দা সিলভা ৪৫.১৬ শতাংশ বৈধ ভোট পেয়েছিলেন। কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আগামী রোববারের নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে কে জয়ী হবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। শেষ টেলিভিশন বিতর্কের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং শেষ মুহূর্তের প্রচার ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের ফলাফল পর্যন্ত।
তথ্যসূত্র: Reuters

