জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ খুঁজে বের করতে পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। কমিটিকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করেছিল পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে
মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণ উদ্ঘাটনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে কমিটি।
এর আগে মঙ্গলবার রাতেই পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি পাঁচ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সঞ্চালন-২-এর প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীর নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে একটার দিকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর একে একে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে থাকে। রাতের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
তবে ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে, তা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি। দুই কমিটির প্রতিবেদন থেকে ঘটনার কারণ ও ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় বিপর্যয় ঘটেছে
বাংলাদেশে এর আগেও একাধিকবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর দুপুর ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
এর আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
সাম্প্রতিক ঘটনার তদন্তে বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণ শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

