গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করতে যাঁদের দেরি হয়েছে, তাঁদের জন্য বিশেষ সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল কর ও ফি পরিশোধ করে অতিরিক্ত জরিমানা বা সারচার্জ ছাড়াই মোটরযানের বিভিন্ন কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। এ সুবিধা নেওয়ার শেষ সময় আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিআরটিএর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মোটরযানের মালিক ও চালকেরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নবায়ন বা হালনাগাদ করার সুযোগ পাবেন।
কোন কোন কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে?
বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশেষ এ সুবিধার আওতায় মোটরযানের কয়েক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- ফিটনেস সনদ: প্রযোজ্য যানবাহনের ফিটনেসসংক্রান্ত কাগজপত্র হালনাগাদ।
- ট্যাক্স-টোকেন: বকেয়া প্রযোজ্য কর ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে ট্যাক্স-টোকেন হালনাগাদ।
- রুট পারমিট: যেসব যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সেগুলোর রুট পারমিট নবায়ন বা হালনাগাদ।
- ড্রাইভিং লাইসেন্স: মেয়াদোত্তীর্ণ বা হালনাগাদ করা প্রয়োজন এমন ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন।
তবে কোন সেবার ক্ষেত্রে কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও সেবার ধরন অনুযায়ী যাচাই করে নেওয়া উচিত।
জরিমানা মওকুফ হলেও মূল ফি দিতে হবে
বিআরটিএর এই সুবিধার আওতায় অতিরিক্ত জরিমানা বা সারচার্জ ছাড়াই কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের কর ও ফি মওকুফ করা হয়েছে। যানবাহনের মালিকদের প্রযোজ্য মূল কর ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
তাই যাঁদের গাড়ির ট্যাক্স-টোকেন, ফিটনেস সনদ, রুট পারমিট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করা বাকি রয়েছে, তাঁদের বকেয়া অর্থের পরিমাণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগেই যাচাই করে নেওয়া ভালো।
২৯ অক্টোবরের মধ্যে কী করবেন?
বিআরটিএ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য যানবাহনের মালিক ও চালকদের অনুরোধ জানিয়েছে। শেষ দিনে অতিরিক্ত ভিড় বা প্রক্রিয়াগত জটিলতা এড়াতে আগেভাগে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ কার্যালয় বা অনুমোদিত সেবা চ্যানেলে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নেওয়া যেতে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের একাধিক কাগজপত্র নবায়ন করা প্রয়োজন, তাঁদের কোন সেবার জন্য কী নথি ও কত টাকা লাগবে, তা নিশ্চিত হয়ে আবেদন করা উচিত।
সময়সীমা পেরিয়ে গেলে কী হবে?
২৯ অক্টোবরের পর জরিমানা বা সারচার্জ ছাড়ের এই সুবিধা বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে নতুন কোনো সরকারি ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তাই সুবিধাটি নিতে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
শেষ কথা: গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলা এবং নির্বিঘ্নে যানবাহন চালানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিআরটিএর ঘোষিত বিশেষ সুযোগ কাজে লাগাতে ২৯ অক্টোবর ২০২৬-এর সময়সীমার আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি যাচাই করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।

