দৈনিক রিপোর্ট ডেস্ক:
চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার সকালে পরিচালিত অভিযানে তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচ সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ডেভিড ইমন ও তাঁর পাঁচ সহযোগীকে একসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া সবাই অস্ত্রধারী শুটার হিসেবে পরিচিত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমন বিদেশে অবস্থানরত আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ–এর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। গত কয়েক বছরে চট্টগ্রামে সংঘটিত বিভিন্ন চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর নাম বারবার উঠে এসেছে।
কে এই ডেভিড ইমন?
মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুসার ছেলে।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকায় সংঘটিত জোড়া হত্যা এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় তিনি অভিযুক্ত। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত সাতটি বড় মামলায় অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও বহনে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছে ১৫ থেকে ২০টি অস্ত্র থাকার তথ্যও পুলিশের কাছে রয়েছে। বাকলিয়ার জোড়া হত্যাকাণ্ডে সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল সরবরাহের দায়িত্বও তিনি পালন করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় সাজ্জাদ বিদেশে পালিয়ে থাকার পর তাঁর অপরাধচক্রের কার্যক্রম পরিচালনায় বর্তমানে দুজন নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের একজন ডেভিড ইমন, অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে এই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন ছোট সাজ্জাদ, যিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ আরও জানায়, বড় সাজ্জাদের চক্রে অন্তত ৫০ জন অস্ত্রধারী সদস্য ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে। ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অপরাধচক্র সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।
