পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে গঙ্গার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেটই খুলে দিয়েছে ভারত। এতে বিপুল পরিমাণ পানি ভাটির দিকে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ফারাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আর ডি দেশপান্ডের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উজান থেকে পানির প্রবল চাপের কারণে বর্তমানে ব্যারেজ দিয়ে প্রায় ১৬ লাখ কিউসেক পানি ভাটির দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি ফিডার ক্যানেল দিয়ে আরও প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানির স্তর প্রায় ২৩ দশমিক ৭৫ মিটারে উঠেছে। ওই এলাকায় বিপৎসীমা ২২ দশমিক ২৫ মিটার। অর্থাৎ পানি বিপৎসীমার প্রায় ১ দশমিক ৫ মিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।
নদীভাঙনে বাড়ছে আতঙ্ক
পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভাঙনপ্রবণ ও নিচু এলাকার বাসিন্দারা উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। নতুন করে পানির চাপ বাড়ায় তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এদিকে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মুর্শিদাবাদের তারানগর, রাধাকৃষ্ণপুরসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই বছর ধরে চলা ভাঙনে এসব এলাকায় ফসলি জমি, বসতভিটা ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফারাক্কা ব্যারেজের পানি প্রবাহ আরও বাড়লে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

