ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসের (WCL) চলতি আসর থেকে সরে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) না দেওয়ায় টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছে না সাবেক তারকাদের নিয়ে গড়া দলটি।
চলতি বছরের WCL শুরু হয়েছে ৩ অক্টোবর। টুর্নামেন্টে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসের অংশগ্রহণ নিয়ে শুরু থেকেই অনিশ্চয়তা ছিল। একপর্যায়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে দলটির ম্যাচও পিছিয়ে দেওয়া হয়। আয়োজকেরা পিসিবির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
পিসিবির সিদ্ধান্তে অচলাবস্থা
পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসের পক্ষ থেকে পিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। দলের মালিক কামিল খানও এ বিষয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে পিসিবি তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।
পরে এক বিবৃতিতে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস জানায়, প্রয়োজনীয় এনওসি না পাওয়ায় তারা এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছে না। দলটি পিসিবির সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানালেও খেলোয়াড়দের কিংবদন্তিদের এই আন্তর্জাতিক আসরে খেলতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছে।
বিরোধের শুরু গত বছর
পাকিস্তান ও WCL কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ২০২৫ সালের আসর থেকে। ওই টুর্নামেন্টে ভারত চ্যাম্পিয়নস পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত না হলেও পয়েন্ট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পিসিবি অসন্তোষ প্রকাশ করে।
সেমিফাইনালেও ভারত মাঠে না নামায় পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস ওয়াকওভার পেয়ে ফাইনালে ওঠে। তবে ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়নসের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় পাকিস্তান।
ঘটনার পর পিসিবি অভিযোগ করে, আয়োজকেরা খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি মিশিয়েছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে। বোর্ড তখন WCL-এ ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ নিয়েও কঠোর অবস্থান নেয়।
এবারও ফিরল না সমঝোতা
২০২৬ সালের আসরে পাকিস্তানকে খেলানোর জন্য আয়োজকেরা ম্যাচের সূচি পরিবর্তনের কথাও বিবেচনা করেছিল। কিছুটা সময় অপেক্ষা করে পিসিবির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।
ফলে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসকে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এর মাধ্যমে দলটির এবারের আসর শুরু হওয়ার আগেই কার্যত শেষ হয়ে গেল।
দলে ছিলেন একঝাঁক সাবেক তারকা
পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস দলে ছিলেন দেশটির ক্রিকেটের একাধিক পরিচিত মুখ। নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির। এছাড়া দলে ছিলেন শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ হাফিজ, সরফরাজ আহমেদ ও ওয়াহাব রিয়াজের মতো সাবেক ক্রিকেটাররা।
তাদের উপস্থিতির কারণে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসকে এবারের WCL-এর অন্যতম আকর্ষণীয় দল হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ফলে দলটির সরে দাঁড়ানোয় টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক উত্তেজনাও কিছুটা কমে গেল।
পাকিস্তানের ম্যাচ ঘিরে বাড়ল অনিশ্চয়তা
পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে টুর্নামেন্টের সূচিতেও। দলটির ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং আয়োজকেরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমাধানের পথ খুঁজছিলেন।
কিন্তু পিসিবির অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে ছাড়াই টুর্নামেন্ট এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে আয়োজকদের।
সব মিলিয়ে, খেলাধুলার মাঠের বাইরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিরোধের কারণে আবারও একটি বড় আন্তর্জাতিক কিংবদন্তি ক্রিকেট আসর থেকে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ থেমে গেল। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে WCL ও পিসিবির মধ্যে এই বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয় কি না।

