আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় কোনো ধরনের ‘বাড়াবাড়ি’ করা হলে সেখানে কঠোর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এ হুঁশিয়ারি দেন।
ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্স এলাকায় কিছু তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ইরানকে তিনি সেখানে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে না দেওয়ার সতর্কতা দেন। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তা অত্যন্ত কঠোর হবে।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা নাতাঞ্জের কাছে অবস্থিত। পাহাড়টির গভীরে নিরাপদ দুটি ভূগর্ভস্থ টানেল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের অবস্থান। নাতাঞ্জে ইরানের দুটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা রয়েছে।
ট্রাম্প এর আগেও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি ওই স্থাপনার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা দুর্বল করা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা তাদের নেই।
মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল। পরে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময়ও নাতাঞ্জে হামলা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ নির্মাণাধীন টানেল স্থাপনা ওই দুই সংঘাতের কোনো সময়েই হামলার শিকার হয়নি।
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পাশাপাশি তেলের ও গ্যাসের বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান ইস্যু ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে।

