আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে পৌঁছেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ। বুধবার উচ্চপর্যায়ের একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরাকি পার্লামেন্টের প্রথম ডেপুটি স্পিকার আদনান ফাইহান।
ইরাকি স্পিকারের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরে কালিবাফ দেশটির প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
বহিরাগত হস্তক্ষেপমুক্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তার আহ্বান
ইরান থেকে বাগদাদের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কালিবাফ বলেন, সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া নতুন ও স্থিতিশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, কঠিন সময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা, বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা এবং অভিন্ন ভবিষ্যতের ধারণার ওপর ইরান ও ইরাকের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ধরনের একটি আঞ্চলিক মডেল বাস্তবায়নে ইরান প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার।
ইরান-ইরাক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কালিবাফ ইরান ও ইরাকের জনগণের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। পরিবর্তিত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে তেহরান ও বাগদাদের কৌশলগত সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও বেড়েছে। কালিবাফের সফরের কয়েক দিন আগে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ওবায়দোল নাসের হেম্মাতি বাগদাদ সফর করেন। ওই সফরে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি তেহরান সফর করে যৌথ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে কয়েকটি চুক্তি করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারবালায় আরবাইন কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন কালিবাফ
কালিবাফের এই সফরের একটি ধর্মীয় দিকও রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পবিত্র আরবাইন পালন করা হচ্ছে। সফরকালে তিনি কারবালায় শোকানুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে কালিবাফের। ইরাকি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানাতেই এই বার্তা দেওয়া হবে বলে ইরানি পক্ষ জানিয়েছে।
ইরান ও ইরাকের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় কালিবাফের বাগদাদ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

