প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের আদালত প্রাঙ্গণে হত্যা মামলার প্রধান আসামি শেখ সিফাতকে পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারধর করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মী ও নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা।

রোববার দুপুরে আসামিদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজির করার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শেখ সিফাত (৪৫) নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা জাহিদ আল আমিন (বুলবুল) হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

সাত আসামির ১০ দিনের রিমান্ড

হত্যা মামলায় শেখ সিফাতসহ সাত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তার চার নারী আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালতে উত্তেজনা

আসামিদের আদালতে হাজির করার সময় ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মী ও নিহত জাহিদ আল আমিনের স্বজনেরা শেখ সিফাতকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে থাকা সিফাতকে ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করেন।

এতে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে মারধরের সময় সিফাতের পরনের পোশাক খুলে যায়।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ বলেন, স্বজন হারানোর ঘটনায় অনেকে উত্তেজিত হয়ে আসামিকে মারধর করেন। তাঁরা পুলিশকেও আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন।

যেভাবে হত্যা করা হয় জাহিদকে

গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় জাহিদ আল আমিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন শুক্রবার তাঁর ছোট ভাই জোবাইদ আল আমিন বন্দরের থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

জাহিদ আল আমিন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বন্দর দক্ষিণ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বন্দর থানা শাখার আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহকে কেন্দ্র করে জাহিদের সঙ্গে শেখ সিফাতসহ কয়েকজনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরে তাঁর অটোরিকশা গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা হয়। ওই মামলার জেরে জাহিদকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযান চালিয়ে ছয় ঘণ্টার মধ্যে শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে জাহিদ হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version