নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের লালপুরে হ্যাকিং কার্যক্রম ও মাদক কারবারের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবলসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে তাদের আদালতে হাজির করা হলে লালপুর আমলি আদালতের বিচারক সাদ্দাম হোসেন সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) কনস্টেবল আল আমিন (২৩) রয়েছেন। রাজশাহী আরআরএফের কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) দীন মোহাম্মদ তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে হ্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে ওহিদুল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার সহযোগী হিসেবে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০৬টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
এ ঘটনায় হ্যাকিং কার্যক্রম ও মাদক কারবারের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার এড়াতে ওহিদুল মোল্লা গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে নিজের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে পুলিশের গতিবিধি নজরদারি করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া হ্যাকিংয়ের কাজে সাতটি মোবাইল ফোনে ৬৮টি সিম ব্যবহার করা হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাড়ির একটি কবুতরের ঘরে ঘুমানোর ব্যবস্থা করেছিলেন ওহিদুল। সেখানে সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ বিভিন্ন সুবিধা ছিল বলেও পুলিশের দাবি।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আল আমিন লালপুরের দুরদুরিয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়া গ্রামের আতাহার প্রামাণিকের ছেলে এবং রাজশাহী আরআরএফের সদস্য।
রাজশাহী আরআরএফের কমান্ড্যান্ট দীন মোহাম্মদ বলেন, জেলা পুলিশের কাছ থেকে তিনি আল আমিনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জেনেছেন। জেলা পুলিশ লিখিতভাবে জানালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার রাতে আদালতের আদেশের পর ছয়জনকে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

