খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে উঠে এসে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে খাগড়াছড়ির কাননিকা চাকমা। খাগড়াছড়ি নটুনকুড়ি ক্যান্টনমেন্ট হাইস্কুল থেকে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া এই শিক্ষার্থী জানায়, তার সাফল্যের পথ সহজ ছিল না।
রোববার সকালে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কাননিকা চাকমা।
সে জানায়, তার বাবা পাহাড়ে জুম চাষ করেন এবং তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ির দুর্গম দীঘিনালা এলাকায়। পড়াশোনার জন্য কাননিকা চাকমা খাগড়াছড়ি প্রধান ডাকঘরে কর্মরত কানিকা চাকমার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেছে। সেখান থেকেই এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে সে।
পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কানিকা চাকমার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় সে। পাশাপাশি এমন একটি আয়োজনে সংবর্ধনা পাওয়ায় আয়োজকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানকে সামনে রেখে শিখোর সহযোগিতায় দেশের ৬৪ জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিচ্ছে প্রথম আলো। খাগড়াছড়ির অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে লেখক ও গবেষক ন্হোলা মং মারমা শিক্ষার্থীদের নিজেদের শিকড় ও পরিচয় মনে রাখার আহ্বান জানান। পিতাছড়া ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হওয়ার পরামর্শ দেন।
খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরণ চাকমা বলেন, প্রতিভার সঙ্গে মানবিকতার সমন্বয়েই একজন মানুষ গড়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে যারা জিপিএ-৫ পায়নি, তাদের হতাশ না হয়ে আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা এতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

