যুগান্তর প্রতিবেদন
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক ক্রেতা প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে এসে দাম শুনে চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছেন বা কিছু না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর কাওরান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানান ভ্যানচালক কামরুল হাসান। তিনি বলেন, পণ্য পরিবহণ করে ৬৬৫ টাকা আয় করেছেন। এর মধ্য থেকে ভ্যানের জমা দেওয়ার পর পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য খাবার কিনতে হয়। কিন্তু বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজারে দেখা গেছে, স্বর্ণা জাতের মোটা চালের দাম কেজিতে ৫৮ টাকা, যা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে ছিল ৫৫ টাকা। বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজি ৯০ থেকে ১৩০ টাকা, আগে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা।
শসার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, যেখানে আগে সর্বনিম্ন দাম ছিল ৪০ টাকা। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে; দুই দিন আগে এর সর্বনিম্ন দাম ছিল ৮০ টাকা।
ফার্মের ডিমের এক ডজনের দাম বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৫০ টাকা। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৮০ টাকা দরে; আগে ছিল ১৬০ টাকা।
এ ছাড়া বড় দানার মসুর ডাল কেজিতে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, খোলা আটা ৫০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে এসব পণ্যের দাম ছিল যথাক্রমে ৯০ থেকে ১০০, ৪৮ ও ৬৫ টাকা।
খোলা পাম অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১৭০ টাকা হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ১৬৬ টাকা। প্যাকেটজাত তরল দুধ বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ১১০ টাকা দরে; আগে ছিল ১০০ টাকা।
বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহণসহ বিভিন্ন খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব নিত্যপণ্যের দামে পড়ছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
একজন বিক্রেতার ভাষায়, ‘মনে হচ্ছে একটা সময় আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।’

