বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে তুর্কমেনিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটির সরকার। গত ১৫ আগস্ট তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয়বিষয়ক সচিব ও রাষ্ট্রদূত ড. এম. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তুর্কমেনিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিদ মেরেদভের বৈঠকে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুর্কমেনিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তুর্কমেনিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিদ মেরেদভ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের (UNGA) সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দ্রুত তুর্কমেনিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
রাশিদ মেরেদভ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহও প্রকাশ করেন। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে উচ্চপর্যায়ের সফর, বিশেষ করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি তুর্কমেনিস্তানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হন উভয় পক্ষ। জাতিসংঘ (UN), ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (OIC) ও জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরস্পরকে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ

বাংলাদেশ ও তুর্কমেনিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২০২৭-২০২৯ মেয়াদের একটি সম্ভাব্য ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ নিয়ে আলোচনা হয়।
অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় বাণিজ্য, অর্থনীতি ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি, খাদ্য ও জলবায়ু নিরাপত্তায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও খেলাধুলায় সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থী, তরুণ, গবেষক, শিক্ষাবিদ, পর্যটক ও সাংস্কৃতিক দলের পারস্পরিক সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে তুর্কমেনিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেত গুরবানভ, তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. আমানুল হক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম এবং তুর্কমেনিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক গুরবানদুর্দি সাপারভসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Source: Ministry of Foreign Affairs

