বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। তাঁর সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে দেখা যাওয়া তরুণী দিশাকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালিয়ে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১ নভেম্বর) তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ।
তিনি জানান, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ জন্য তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ। পরিবারের দাবি, সেদিন তাঁর জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হন তিনি। পরদিন (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখান থানাধীন তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মরদেহ উদ্ধারের আগের রাতে দীপের পাশাপাশি দিশাও তাহসিফের সঙ্গে ছিলেন। উত্তরার সোনারগাঁও জনপদের পাশের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারের ফুটেজে রাত ১০টা ১৭ মিনিট থেকে ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তাঁদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। ফুটেজে তাঁদের একই মোটরসাইকেলে বারে আসতে এবং পরে একই মোটরসাইকেলে চলে যেতে দেখা গেছে।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে দীপকে। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বর্তমানে নৌ পুলিশের হেফাজতে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে এবার দিশাকেও জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা আশা করছেন, দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাহসিফের মৃত্যুর আগের ঘটনাপ্রবাহ এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা জানা সম্ভব হবে।
তবে দিশা বা দীপের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।

