রাজধানী ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ থাকছে, তবে এসব যান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলতে পারবে না। নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
নীতিমালার আওতায় চলবে অটোরিকশা
মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ করা হবে না। তবে কোন সড়কে এবং কোন এলাকায় এসব যান চলাচল করতে পারবে, তা নীতিমালার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
তিনি জানান, প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। নগরের অভ্যন্তরীণ ও নির্ধারিত সড়কে চলাচলের সুযোগ রাখা হবে।
এর ফলে অটোরিকশাচালকদের জীবিকা ও নগরের পরিবহন চাহিদা বিবেচনায় রাখার পাশাপাশি প্রধান সড়কে যানজট ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান হবে কি?
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। একদিকে অল্প দূরত্বে যাতায়াতে এসব যান সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে প্রধান সড়কে এসব যান চলাচলের কারণে যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যা তৈরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে কোন পথে অটোরিকশা চলবে এবং কোন এলাকায় চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে—তা স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি চালক ও মালিকদের জন্যও নিয়ম মেনে চলার বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে।
যাত্রীদের জন্য কী পরিবর্তন আসতে পারে?
অটোরিকশা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখা হলে যাত্রীদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে প্রয়োজনে একাধিক যানবাহন ব্যবহার করতে হতে পারে। বিশেষ করে প্রধান সড়কের কাছাকাছি থেকে গন্তব্যে যেতে পরিবহন পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
তবে অভ্যন্তরীণ সড়কে অটোরিকশার চলাচল নিয়মিত রাখা গেলে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে।
ধানমন্ডি লেক উন্নয়নেও উদ্যোগ
একই অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধানমন্ডি লেককে আরও নান্দনিক করা হবে। লেকের পানির নিচে জমে থাকা ময়লা অপসারণ করে পানির স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ধানমন্ডি লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ করার কথাও জানান তিনি।
এখন নীতিমালার অপেক্ষা
ঢাকায় অটোরিকশা চলাচল নিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নতুন নীতিমালার ওপর।
কোন সড়কে অটোরিকশা চলবে, কোথায় নিষিদ্ধ থাকবে, কীভাবে এসব যান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করা হবে—এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করা গেলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরতে পারে।
একদিকে অটোরিকশার সঙ্গে যুক্ত চালকদের জীবিকা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে প্রধান সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

