আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন ডলারের দরপতনের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের স্পটমূল্য ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৬ ডলার ৭৪ সেন্টে পৌঁছেছে। আগের দিন বুধবার স্বর্ণের দাম ৭ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চলতি মাসে সুদের হার বাড়াতে পারে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে স্বর্ণের বাজারে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টার দিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৬ ডলার ৭৪ সেন্ট হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৭ ডলার ৩০ সেন্টে পৌঁছেছে।
ডলারের দর কমায় বাড়ল স্বর্ণের দাম
বুধবার ডলারের দাম গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর বৃহস্পতিবার তা কমে আসে। ডলারের দরপতনের ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়। এতে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রডা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই বাজারে এই ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে চলতি মাসের শেষ দিকে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা জোরালো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিএমইর ফেডওয়াচ টুলে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ২৯ শতাংশ দেখানো হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে ছিল ২২ শতাংশ।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার একটি মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে। কারণ, স্বর্ণ ধরে রাখলে সুদ পাওয়া যায় না। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্যের দিকে নজর রাখছেন।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে
স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৬ ডলার ১ সেন্ট হয়েছে।
এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬০৮ ডলার ২০ সেন্টে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১০৮ ডলার ১৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার, মূল্যস্ফীতি ও ডলারের গতিপথের ওপর নির্ভর করে সামনের দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে নতুন করে ওঠানামা দেখা দিতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও দৈনিক যুগান্তর।

