লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। একই সঙ্গে পৃথক বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দলগুলোর পক্ষ থেকে এসব কর্মসূচি ও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে। তিনি দাম বাড়ানোর আগে সরকারি ব্যয় কমানো, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ করা এবং জ্বালানি খাতে দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং অপচয় ও অদক্ষতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তিন দলের পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী ইউনিট সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে। এতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর বাংলামোটর এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার আয়োজনে কর্মসূচিতে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সন্ধ্যা ৭টায় পল্টন মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছে দলটি।
নতুন জ্বালানি মূল্য
সরকারের নতুন নির্ধারিত দরে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক তেল ও শিপিং ব্যয় বেড়েছে এবং রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আর্থিক চাপও বেড়েছে।

